স্কুল-কলেজের দিনগুলোতে ঈদের সময় নতুন কামিজ পেলে কী আনন্দটাই না হতো! এখনো মনে পড়ে, আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে মায়ের ওড়না নিয়ে পোজ দেওয়ার চেষ্টা করতাম—ঠিক যেন টিভির মডেলদের মতো!
সময় বদলেছে, কিন্তু সালওয়ার কামিজের প্রতি ভালোবাসাটা একই আছে। এখন তো সোশ্যাল মিডিয়ার যুগ—যেখানে কেউই আর শুধু মডেল না, আমরা সবাই নিজের মতো করে একটা স্টাইল স্টেটমেন্ট তৈরি করতে পারি।
আমি যখন নিজেকে প্রথম “মডেল” ভাবলাম
সত্যি বলতে কী, “মডেল” শব্দটা আগে শুনলেই ভয় লাগত। মনে হতো, সেটা বুঝি টেলিভিশন বা র্যাম্পের লোকদের জন্য। কিন্তু একদিন এক বন্ধুর তোলা একটা ছবিতে আমাকে সালওয়ার কামিজে দেখে হঠাৎ মনে হলো—আরে! এই আমিটাও তো পারি!
সেই থেকেই শুরু। মাঝে মাঝে ছাদে গিয়ে ছবি তুলি, কখনও ছায়া পড়া বিকেলে বারান্দায় বসে পোজ দিই। ধীরে ধীরে বুঝলাম, সালওয়ার কামিজে ছবি তোলার সময় কিছু ছোট টিপস মাথায় রাখলেই ছবিগুলো আরও সুন্দর হয়।



আমার প্রিয় কিছু পোজ (যা আপনি চাইলে আজই ট্রাই করতে পারেন!)
🌿 ১. সোজা দাঁড়িয়ে, এক পা একটু সামনে
এই ভঙ্গিটা খুব সাধারণ, কিন্তু ছবিতে দারুণ ভাবে ফ্রেম হয়। একটু হাসি থাকলেই ছবিটা জীবন্ত হয়ে ওঠে।
🌸 ২. পিছন থেকে একটুখানি তাকিয়ে
যদি কামিজের পিছনে কাজ থাকে, তাহলে এই পোজটা অসাধারণ লাগে।
💨 ৩. বাতাসে উড়তে থাকা ওড়নার মুহূর্ত
কখনও কখনও শুধু ওড়নার হালকা ওড়াও একটা ছবির গল্প বলে দিতে পারে।
🪑 ৪. চুপচাপ বসে থাকা, জানালার পাশে
কিছু মুহূর্ত এমন থাকে, যেখানে কিছু না করলেই বেশি বলা হয়।
ছবির আগে ও পরে আমার কিছু সহজ অভ্যাস
- বিকেলের আলো সবচেয়ে সুন্দর, তখনই ছবি তুলি।
- ওড়না ঠিকঠাকভাবে সেট করে নিই—কারণ সেটাই কামিজের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দেয়।
- ক্যামেরার দিকে না তাকিয়ে, একটু দূরে তাকিয়ে থাকলে ছবিতে কল্পনার ছোঁয়া আসে।
- হাসি জোর করে নয়, মনে যা আসে সেটাই মুখে ফুটিয়ে তুলি।



কেউ চাইলে শুরু করতে পারেন এখান থেকেই…
আপনি কি সবসময় ভেবেছেন, “আমি কি পারবো?” পারবে নিশ্চয়ই। আজকাল তো একটা স্মার্টফোনই যথেষ্ট। নিজের কামিজ পরে, আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে কিছু পোজ প্র্যাকটিস করে দেখুন। ছোট ছোট স্টেপ থেকেই বড় জার্নি শুরু হয়।
শেষ কথা
সালওয়ার কামিজে মডেল হওয়া মানে হচ্ছে নিজের মতো করে নিজের সংস্কৃতিকে ভালোবাসা। এটার জন্য আপনাকে বড় প্ল্যাটফর্মে যেতে হবে না। আপনি যেভাবে আছেন, সেভাবেই সুন্দর। শুধু নিজেকে বিশ্বাস করুন।







